ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নোয়াখালীর নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে পলাশের উৎসবমুখর প্রতিক্রিয়া ১৭ ঘণ্টাতেও উদ্ধার হয়নি শিশুটি, চলছে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুক্রবার থেকে বন্ধ হতে যাচ্ছে মেট্রোরেলের যাত্রী সেবা আগামী নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে : সিইসি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রতিটি বল খেলব আমার দেশের জন্য: সাকিব ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গৌরনদীতে চার ডাকাত গ্রেপ্তার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে জাপানের কাছ থেকে যা শিখতে পারে বাংলাদেশ অযোধ্যায় রাম মন্দিরের কাজ সম্পন্ন হলেও মসজিদ নির্মাণ এগোয়নি কেন?

রাজউকের সেবা বন্ধে ঢাকার আবাসন খাত কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে।

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তিন মাস ধরে ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নকশা অনুমোদন এবং ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র সেবা বন্ধ রাখায় ঢাকার আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই সময় আটকে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।

রাজউকের নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহার-সংক্রান্ত আবেদনগুলো ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস) নামে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হয়। এই সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়। গত ১৯ মে সফটওয়্যারে নিরাপত্তার ত্রুটি ধরা পড়ায় অনলাইন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার নকশা অনুমোদনের আবেদন এবং পাঁচ শতাধিক ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র আবেদন জমা রয়েছে। ক্ষতি কমাতে ২১ আগস্ট থেকে অনলাইনে আংশিক কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও রাজউকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই।

রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম ২০ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, “ইসিপিএস ত্রুটির কারণে সেবা বন্ধ থাকার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আগের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা আবার শুরু করেছি।”

তবে রাজউকের কর্মকর্তারা এবং প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল ও জটিল সিস্টেম চালাতে দক্ষ জনবল, ডেটাবেজ ও সার্ভার নিরাপত্তার প্রয়োজন। এই ঘাটতি ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তাজটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

এক শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠানের সিইও ২২ আগস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমাদের আটটি প্রকল্প আটকে আছে। প্রকল্পগুলোর আর্থিক মূল্য ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এতে শুধু বেসরকারি খাতই নয়, সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।”

আরেক ডেভেলপার জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পে গড়ে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তাই হাজার হাজার আবেদন আটকে থাকলে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, “সেবা বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমে যায়, শ্রমিকেরা কাজ হারায়, এবং ডেভেলপারদের ব্যাংক ঋণ ও প্রকল্প পরিকল্পনায় বিপর্যয় নামে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজউকের সেবা বন্ধে ঢাকার আবাসন খাত কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে।

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তিন মাস ধরে ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নকশা অনুমোদন এবং ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র সেবা বন্ধ রাখায় ঢাকার আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই সময় আটকে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।

রাজউকের নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহার-সংক্রান্ত আবেদনগুলো ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস) নামে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হয়। এই সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়। গত ১৯ মে সফটওয়্যারে নিরাপত্তার ত্রুটি ধরা পড়ায় অনলাইন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার নকশা অনুমোদনের আবেদন এবং পাঁচ শতাধিক ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র আবেদন জমা রয়েছে। ক্ষতি কমাতে ২১ আগস্ট থেকে অনলাইনে আংশিক কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হলেও রাজউকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই।

রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম ২০ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, “ইসিপিএস ত্রুটির কারণে সেবা বন্ধ থাকার ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আগের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা আবার শুরু করেছি।”

তবে রাজউকের কর্মকর্তারা এবং প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল ও জটিল সিস্টেম চালাতে দক্ষ জনবল, ডেটাবেজ ও সার্ভার নিরাপত্তার প্রয়োজন। এই ঘাটতি ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তাজটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

এক শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠানের সিইও ২২ আগস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমাদের আটটি প্রকল্প আটকে আছে। প্রকল্পগুলোর আর্থিক মূল্য ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এতে শুধু বেসরকারি খাতই নয়, সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।”

আরেক ডেভেলপার জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পে গড়ে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তাই হাজার হাজার আবেদন আটকে থাকলে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, “সেবা বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমে যায়, শ্রমিকেরা কাজ হারায়, এবং ডেভেলপারদের ব্যাংক ঋণ ও প্রকল্প পরিকল্পনায় বিপর্যয় নামে।”