গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরায়েলের জন্য আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দর বন্ধের ঘোষণা তুরস্কের

- আপডেট সময় : ০৬:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ৯ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঘোষণা দিয়েছেন—ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের উড়োজাহাজের জন্য তুরস্কের আকাশসীমা এবং ইসরায়েলি জাহাজের জন্য সমুদ্রবন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তুরস্কের পার্লামেন্টে গাজা বিষয়ক এক বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিদান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। তুর্কি জাহাজগুলো আর কোনো ইসরায়েলি বন্দরে যাবে না, ইসরায়েলের উড়োজাহাজও আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।”
গাজা নিয়ে তুরস্কের অবস্থান
হাকান ফিদান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বিগত দুই বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে আসছে এবং বিশ্বের চোখের সামনে মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো গাজায় অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ সুগম করা।
তুরস্ক গত বছরের মে মাসেই ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছিল। ফলে নতুন করে আরোপিত এ পদক্ষেপকে তুরস্ক–ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরদোয়ানের কড়া সমালোচনা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে তিনি একে “গণহত্যা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এরদোয়ান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নাৎসি জার্মান শাসক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড আধুনিক যুগের এক নতুন হিটলারকে মনে করিয়ে দেয়।”
উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক
গত কয়েক বছর ধরে তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও দুই দেশের অবস্থান একে অপরের বিপরীতে। আল–জাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রেসুল সেরদার মন্তব্য করেছেন, আঙ্কারার এ কঠোর সিদ্ধান্ত মূলত দুই দেশের বাড়তে থাকা উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তুরস্কের এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলকে আরও কূটনৈতিক চাপে ফেলবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে তুরস্কের এ অবস্থান গাজায় মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করবে।