ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাওবা-ইস্তিগফারে মহিমান্বিত হোক মাগফিরাতের দশক

news desk
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাতের দশ দিন। মুমিনের উচিত, তওবা, ইস্তিগফার, অতীতের ভুল স্বীকার এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার মাধ্যমে রমজানের মহিমান্বিত এই সময়ের মর্যাদা রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের প্রতি অন্যায় করেছি তাদের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করা। এই সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই পাপের দাগ ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে।

যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নাজাত দেওয়ার আগে পাপ থেকে পবিত্র করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে।

তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৮)

উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ আগে তাঁর বান্দাদের পাপ থেকে মুক্ত করবেন, তারপর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাই মুমিনের উচিত, নাজাতের দশক আসার আগেই বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকা। তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা তার পাপ থেকে পবিত্র হতে পারে, যা প্রতিটি মুমিনের প্রকৃত সফলতা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা সফল হতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার। (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)

মাগফিরাত লাভের জন্য এই সময় কিছু বাস্তব অনুশীলন জরুরি। নিয়মিত ইস্তিগফার, গভীর মনোযোগে নামাজ, কোরআনের তিলাওয়াত ও ভাবনা, দান-সদকা, এবং জিহ্বা ও আচরণের সংযম হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে। বিশেষ করে রাতের নির্জনতায় নিজের জীবনকে পর্যালোচনা করা মানুষের ভেতরে সত্যিকারের অনুতাপ সৃষ্টি করে। অনুতাপই মাগফিরাতের দরজা খুলে দেয়।

যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। রমজানের শেষ দশ দিনের লক্ষ্যই হলো সেই মুক্তির নিশ্চয়তা অর্জন করা। কিন্তু এই মুক্তির ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম দুই ধাপের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ওপর।

আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই ভুলকে স্বাভাবিক করে ফেলি, কিন্তু রমজান আমাদের শেখায় ভুলকে স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং নৈতিক শক্তি। যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, সেও-ই প্রকৃত পরিবর্তনের পথে হাঁটে।

মহান আল্লাহ সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে হেদায়েতের আলোর পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্রঃ news24bd.tv

তাওবা-ইস্তিগফারে মহিমান্বিত হোক মাগফিরাতের দশক

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তাওবা-ইস্তিগফারে মহিমান্বিত হোক মাগফিরাতের দশক

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাতের দশ দিন। মুমিনের উচিত, তওবা, ইস্তিগফার, অতীতের ভুল স্বীকার এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার মাধ্যমে রমজানের মহিমান্বিত এই সময়ের মর্যাদা রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি যাদের প্রতি অন্যায় করেছি তাদের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার নৈতিক সাহস অর্জন করা। এই সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই পাপের দাগ ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে।

যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নাজাত দেওয়ার আগে পাপ থেকে পবিত্র করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে।

তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৮)

উল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ আগে তাঁর বান্দাদের পাপ থেকে মুক্ত করবেন, তারপর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাই মুমিনের উচিত, নাজাতের দশক আসার আগেই বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকা। তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা তার পাপ থেকে পবিত্র হতে পারে, যা প্রতিটি মুমিনের প্রকৃত সফলতা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা সফল হতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার। (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)

মাগফিরাত লাভের জন্য এই সময় কিছু বাস্তব অনুশীলন জরুরি। নিয়মিত ইস্তিগফার, গভীর মনোযোগে নামাজ, কোরআনের তিলাওয়াত ও ভাবনা, দান-সদকা, এবং জিহ্বা ও আচরণের সংযম হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে। বিশেষ করে রাতের নির্জনতায় নিজের জীবনকে পর্যালোচনা করা মানুষের ভেতরে সত্যিকারের অনুতাপ সৃষ্টি করে। অনুতাপই মাগফিরাতের দরজা খুলে দেয়।

যখন হৃদয় রহমতে নরম হয় এবং তওবার মাধ্যমে পাপ ধুয়ে যায়, তখন মানুষ নাজাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। রমজানের শেষ দশ দিনের লক্ষ্যই হলো সেই মুক্তির নিশ্চয়তা অর্জন করা। কিন্তু এই মুক্তির ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম দুই ধাপের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ওপর।

আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই ভুলকে স্বাভাবিক করে ফেলি, কিন্তু রমজান আমাদের শেখায় ভুলকে স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং নৈতিক শক্তি। যে ব্যক্তি নিজের ভেতরের অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, সেও-ই প্রকৃত পরিবর্তনের পথে হাঁটে।

মহান আল্লাহ সবাইকে পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে হেদায়েতের আলোর পথে ফিরে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্রঃ news24bd.tv

তাওবা-ইস্তিগফারে মহিমান্বিত হোক মাগফিরাতের দশক