ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬২ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয় :জানালেন তারেক রহমান বরিশাল-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে জনসমাবেশ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। শাহবাগ মোড় অবরোধ ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণসহ ৫ দাবিতে ১৯ দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড আবার যাচাই করবে আমেরিকা হোয়াইট হাউসের কাছে বন্দুক হামলায় আহত ন্যাশনাল গার্ডের ১ সদস্য নিহত ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব: যা জানাল কর্তৃপক্ষ আয়ারল্যান্ডের কাছে টাইগারদের বিশাল হার কড়াইল বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি খাদ্যসহায়তা ডব্লিউএফপির

স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় মহাসড়কে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মহাসড়কে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ।

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস মূলত অস্থায়ী অডিটোরিয়ামে আয়োজনের কথা থাকলেও, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা এবং অডিটোরিয়ামের সীমিত আসনসংখ্যার (মাত্র ৬০ জন ধারণক্ষমতা) কারণে অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদস্বরূপ মহাসড়কে নবীনবরণের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও।

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে আয়োজন করা হয় নবীনবরণ অনুষ্ঠান।

শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সেখানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং ক্লাস নেওয়া হয় খোলা আকাশের নিচে।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দাবি জানান—রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের (ডিপিপি) অনুমোদন যেন অবিলম্বে একনেক সভায় প্রদান করা হয়।

নবাগত এক শিক্ষার্থী বলেন, এই অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে বিষাদেরও। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকত, তাহলে হয়তো মহাসড়কে বসে ক্লাস করতে হতো না।

তবে শিক্ষাজীবনের প্রথম দিনেই এমন একটি আন্দোলনের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা আশাবাদী, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবে। ’
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমাদের দাবি জানিয়েছিল যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস রাস্তায় নিতে হবে। আমাদের অডিটোরিয়ামটি এত ছোট যে মাত্র ৬০ জন একসাথে বসতে পারে।

আমাদের নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ জন। ফলে আমাদের রাস্তাতে ওরিয়েন্টেশন করতে হলো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজন ডিপিপি হুবহু এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য সরকারের সুনজর কামনা করছি। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন আরও প্রাণবন্ত ও সহজ হবে। ’
প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৎসামান্য অঙ্কের ডিপিপি অনুমোদন না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তাদের দাবি, হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে আসছেন।

গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বয়কটের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ডিপিপি’র দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। সমস্ত শর্তপূরণ ও প্রমাণক সরবরাহের পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি’র অনুমোদন কেন হচ্ছে না, প্রশ্নটি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বারবার পরিবর্তন করে মাত্র ৫ শত ১৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ সরকার কেন দিচ্ছে না তা নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় মহাসড়কে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মহাসড়কে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ।

আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বিভাগের নতুন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস মূলত অস্থায়ী অডিটোরিয়ামে আয়োজনের কথা থাকলেও, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা এবং অডিটোরিয়ামের সীমিত আসনসংখ্যার (মাত্র ৬০ জন ধারণক্ষমতা) কারণে অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদস্বরূপ মহাসড়কে নবীনবরণের দাবিতে অবস্থান নেন। তাদের এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও।

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে আয়োজন করা হয় নবীনবরণ অনুষ্ঠান।

শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সেখানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং ক্লাস নেওয়া হয় খোলা আকাশের নিচে।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দাবি জানান—রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের (ডিপিপি) অনুমোদন যেন অবিলম্বে একনেক সভায় প্রদান করা হয়।

নবাগত এক শিক্ষার্থী বলেন, এই অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে বিষাদেরও। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকত, তাহলে হয়তো মহাসড়কে বসে ক্লাস করতে হতো না।

তবে শিক্ষাজীবনের প্রথম দিনেই এমন একটি আন্দোলনের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা আশাবাদী, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবে। ’
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমাদের দাবি জানিয়েছিল যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস রাস্তায় নিতে হবে। আমাদের অডিটোরিয়ামটি এত ছোট যে মাত্র ৬০ জন একসাথে বসতে পারে।

আমাদের নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ জন। ফলে আমাদের রাস্তাতে ওরিয়েন্টেশন করতে হলো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজন ডিপিপি হুবহু এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য সরকারের সুনজর কামনা করছি। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন আরও প্রাণবন্ত ও সহজ হবে। ’
প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৎসামান্য অঙ্কের ডিপিপি অনুমোদন না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তাদের দাবি, হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে আসছেন।

গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বয়কটের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ডিপিপি’র দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। সমস্ত শর্তপূরণ ও প্রমাণক সরবরাহের পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি’র অনুমোদন কেন হচ্ছে না, প্রশ্নটি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে। প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বারবার পরিবর্তন করে মাত্র ৫ শত ১৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ সরকার কেন দিচ্ছে না তা নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।