ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকছে কি না ঘোষণা আজ, দুপুরে মজলিসে শূরার বৈঠক মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবিতে কারাকাসের রাস্তায় হাজারো মানুষ মেসির হাতের সেই বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন আজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে দিতে হবে ২৫ শতাংশ শুল্ক, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান গোল্ডেন গ্লোব: রাতে বেভারলি হিলসে বসছে তারার মেলা সালাহ ম্যাজিকে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে সেমিতে মিশর বারিশাল গৌরনদীতে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

রিফাইন্ড পাম অয়েল অধিকাংশ।

পাম অয়েলে রান্না করা খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর?

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ায় সাধারণত ভাজাপোড়া জিনিস খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সে জন্য পাম তেলে ভাজাভুজির স্বাদও হয় মুখরোচক। বিশেষ করে বেকড খাবার। পাম অয়েলে খাবার রান্না করলে সেই স্বাদ বদলানো যায় না। আর খাবার সুস্বাদু হয়। তাই পাম অয়েল দিয়ে রান্না করতে সবাই বেশি পছন্দ করেন। এ ছাড়া বাজারে যে কোনো ভোজ্যতেলের চেয়ে পাম অয়েলের দাম একটু কম। এ জন্য রেস্টুরেন্টসহ বাড়িতেও অনেকে রান্নায় পাম অয়েল ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু সুস্থ জীবনযাপন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে— স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া। আর স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে থাকে খাবারে ব্যবহৃত তেলের ওপর। আর প্রতিদিনের খাবারে ব্যবহৃত তেল আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না। যদিও পাম অয়েল দেশে রাস্তার ধারে হোটেল থেকে শুরু করে বড় বড় রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন বেকারিতে এ মুখরোচক খাবার তৈরি হয়ে থাকে।

কিন্তু পাম অয়েল আমাদের শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে, তা অনুমান করতে পারি না। এটা যে আমাদের শরীরের জন্য ভালো না, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই কারও। আর রিফাইন্ড পাম অয়েল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাইড্রোজেনেটেড অবস্থায় বাজারজাত করা হয়, যাতে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, পাম অয়েল আমাদের শরীরে কোন কোন ক্ষতি করতে পারে—

১. পাম অয়েলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। আর অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে, যা আমাদের হৃৎপিণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ছাড়া স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

২. আমাদের দেশে একই তেলে বারবার খাবারে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ভাজাপোড়ায়। আর পাম অয়েল বারবার গরম করলে ভিন্ন রকমের যৌগ তৈরি হয়। তাতে টক্সিন তৈরি হয়। এই তেল খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে এবং হজমজনিত সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৩. পাম তেলের অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণের ফলে লিভার ও ভিসারাল ফ্যাট জমাতে সাহায্য করতে পারে। যার ফলে ২ টাইপের ডায়াবেটিস হতে পারে। সেই সঙ্গে লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হয়ে থাকে, যা থেকে ফ্যাটি লিভার, লিভাল ফাইব্রোসিস— এমনকি সিরোসিসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

৪. পাম অয়েলে যে কোনো রান্না সুস্বাদু হয়। এতে খাবার বেশি খাওয়া হয়। আর খাবার বেশি খেলে শরীরের ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রিফাইন্ড পাম অয়েল অধিকাংশ।

পাম অয়েলে রান্না করা খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর?

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

এশিয়ায় সাধারণত ভাজাপোড়া জিনিস খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সে জন্য পাম তেলে ভাজাভুজির স্বাদও হয় মুখরোচক। বিশেষ করে বেকড খাবার। পাম অয়েলে খাবার রান্না করলে সেই স্বাদ বদলানো যায় না। আর খাবার সুস্বাদু হয়। তাই পাম অয়েল দিয়ে রান্না করতে সবাই বেশি পছন্দ করেন। এ ছাড়া বাজারে যে কোনো ভোজ্যতেলের চেয়ে পাম অয়েলের দাম একটু কম। এ জন্য রেস্টুরেন্টসহ বাড়িতেও অনেকে রান্নায় পাম অয়েল ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু সুস্থ জীবনযাপন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে— স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া। আর স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে থাকে খাবারে ব্যবহৃত তেলের ওপর। আর প্রতিদিনের খাবারে ব্যবহৃত তেল আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না। যদিও পাম অয়েল দেশে রাস্তার ধারে হোটেল থেকে শুরু করে বড় বড় রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন বেকারিতে এ মুখরোচক খাবার তৈরি হয়ে থাকে।

কিন্তু পাম অয়েল আমাদের শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে, তা অনুমান করতে পারি না। এটা যে আমাদের শরীরের জন্য ভালো না, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই কারও। আর রিফাইন্ড পাম অয়েল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাইড্রোজেনেটেড অবস্থায় বাজারজাত করা হয়, যাতে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়। এই ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার অন্যতম কারণ হতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, পাম অয়েল আমাদের শরীরে কোন কোন ক্ষতি করতে পারে—

১. পাম অয়েলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। আর অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে, যা আমাদের হৃৎপিণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ছাড়া স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

২. আমাদের দেশে একই তেলে বারবার খাবারে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ভাজাপোড়ায়। আর পাম অয়েল বারবার গরম করলে ভিন্ন রকমের যৌগ তৈরি হয়। তাতে টক্সিন তৈরি হয়। এই তেল খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে এবং হজমজনিত সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৩. পাম তেলের অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণের ফলে লিভার ও ভিসারাল ফ্যাট জমাতে সাহায্য করতে পারে। যার ফলে ২ টাইপের ডায়াবেটিস হতে পারে। সেই সঙ্গে লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হয়ে থাকে, যা থেকে ফ্যাটি লিভার, লিভাল ফাইব্রোসিস— এমনকি সিরোসিসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

৪. পাম অয়েলে যে কোনো রান্না সুস্বাদু হয়। এতে খাবার বেশি খাওয়া হয়। আর খাবার বেশি খেলে শরীরের ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।