ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকছে কি না ঘোষণা আজ, দুপুরে মজলিসে শূরার বৈঠক মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবিতে কারাকাসের রাস্তায় হাজারো মানুষ মেসির হাতের সেই বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন আজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে দিতে হবে ২৫ শতাংশ শুল্ক, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান গোল্ডেন গ্লোব: রাতে বেভারলি হিলসে বসছে তারার মেলা সালাহ ম্যাজিকে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে সেমিতে মিশর বারিশাল গৌরনদীতে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পরিচালক হেলিশ রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ হেলিশ রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নারী কর্মচারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী এক নারী নিজ বাড়িতে সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বিষয়টি প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের সারমর্ম

নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তিনি আউটসোর্সিং ভিত্তিতে প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টের ক্যাশ কাউন্টারে চাকরি করছেন। তিনি জানান, পরিচালক নিয়মিত তাকে অফিস কক্ষে ডেকে পাঠাতেন এবং যাওয়ার পর অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলতেন। ভুক্তভোগী বলেন, তাকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো এবং প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক সুবিধা নিতেন।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ডাঃ হেলিশ তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রস্তাব দেন এবং বাধ্য করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে অর্থ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন, বন্দুকের ভয় দেখিয়েছেন, আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন এবং চাকরিতে থাকতে আমাকে মানসিক চাপ দিয়েছেন।”

নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারি হাসপাতালে বিতরণের জন্য রাখা টিকেটও তিনি টাকা দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন এবং সেই সমস্ত টাকা পরিচালক নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পরিচালক ডাঃ হেলিশ রঞ্জন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করেননি। কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিত শর্ম্মা জানান, তার কাছে এখনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিশ্লেষণ

ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডে চাকরিজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সমস্যা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্তৃক এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় আরও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পরিচালক হেলিশ রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ হেলিশ রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নারী কর্মচারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী এক নারী নিজ বাড়িতে সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বিষয়টি প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের সারমর্ম

নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তিনি আউটসোর্সিং ভিত্তিতে প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টের ক্যাশ কাউন্টারে চাকরি করছেন। তিনি জানান, পরিচালক নিয়মিত তাকে অফিস কক্ষে ডেকে পাঠাতেন এবং যাওয়ার পর অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলতেন। ভুক্তভোগী বলেন, তাকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো এবং প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক সুবিধা নিতেন।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ডাঃ হেলিশ তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রস্তাব দেন এবং বাধ্য করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে অর্থ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন, বন্দুকের ভয় দেখিয়েছেন, আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন এবং চাকরিতে থাকতে আমাকে মানসিক চাপ দিয়েছেন।”

নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারি হাসপাতালে বিতরণের জন্য রাখা টিকেটও তিনি টাকা দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন এবং সেই সমস্ত টাকা পরিচালক নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পরিচালক ডাঃ হেলিশ রঞ্জন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করেননি। কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিত শর্ম্মা জানান, তার কাছে এখনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিশ্লেষণ

ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডে চাকরিজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সমস্যা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্তৃক এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় আরও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।