ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ: হাইকোর্টের রায়

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ১০:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আদালত বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বিবাদীদের সচিবালয় স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রায় দেন। রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি) এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে।

এ সংক্রান্ত দায়িত্ব ১৯৭৫ সালের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী থেকে রাষ্ট্রপতির ওপর স্থানান্তরিত হয়েছিল। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রয়োগ’ যোগ করা হয়। হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী ও ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হবে এবং রায়ের দিন থেকে কার্যকর হবে।

এছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট করে ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে। হাইকোর্টের রুল শুনানি ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়। পরে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি দেখাশোনার জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। রুল শুনানি ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট শেষ হয়।

আজ রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেন। একই সঙ্গে সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যার জন্য আপিলের উদ্দেশ্যে ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান শুনানিতে অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ: হাইকোর্টের রায়

আপডেট সময় : ১০:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আদালত বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বিবাদীদের সচিবালয় স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রায় দেন। রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি) এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে।

এ সংক্রান্ত দায়িত্ব ১৯৭৫ সালের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী থেকে রাষ্ট্রপতির ওপর স্থানান্তরিত হয়েছিল। পরে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রয়োগ’ যোগ করা হয়। হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী ও ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হবে এবং রায়ের দিন থেকে কার্যকর হবে।

এছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট করে ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে। হাইকোর্টের রুল শুনানি ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়। পরে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি দেখাশোনার জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। রুল শুনানি ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট শেষ হয়।

আজ রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেন। একই সঙ্গে সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যার জন্য আপিলের উদ্দেশ্যে ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান শুনানিতে অংশ নেন।