ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকছে কি না ঘোষণা আজ, দুপুরে মজলিসে শূরার বৈঠক মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবিতে কারাকাসের রাস্তায় হাজারো মানুষ মেসির হাতের সেই বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন আজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে দিতে হবে ২৫ শতাংশ শুল্ক, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান গোল্ডেন গ্লোব: রাতে বেভারলি হিলসে বসছে তারার মেলা সালাহ ম্যাজিকে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে সেমিতে মিশর বারিশাল গৌরনদীতে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

ঢামেকে প্রিয়ার গর্ভে একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম, এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন নবজাতকরা

Songbad somachar
  • আপডেট সময় : ০২:০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭২ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া নামের এক প্রসূতি। ওজন কম হওয়ায় তিনটি নবজাতককে ঢামেকের এনআইসিইউতে এবং বাকি তিনটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জন্ম দেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবিদা সুলতানা বলেন, “গতরাতে প্রিয়া নামের এক নারী ভর্তি হন। আজ সকালে তিনি ছয়টি সন্তানের জন্ম দেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বেবি’ বলা যায় না, এটি আসলে ২৭ সপ্তাহের ইনএবিটেবল অ্যাবরশন।”

তিনি জানান, এর আগে প্রিয়া একটি পূর্ণবয়স্ক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি ডেলিভারির সময় মারা যায়। এবারের ছয় নবজাতকের মধ্যে তিনটির ওজন প্রায় ৯০০ গ্রাম এবং বাকি তিনটির ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম। বর্তমানে সবাই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং জীবিত আছে।

ডা. আবিদা সুলতানা আরও বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত ২৮ সপ্তাহকে ভ্রূণের জীবনোপযোগী সময় ধরা হয়। কিন্তু এই ডেলিভারি তার আগেই হয়েছে, ফলে শিশুদের প্রাণসংকট রয়েছে। ভাগ্যে থাকলে এবং উন্নত চিকিৎসার কারণে তারা বেঁচে যেতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, একসঙ্গে ছয়টি সন্তান ধারণ স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। প্রিয়া ‘ফার্টিলিটি ওভুলেশন ইন্ডাকশন ড্রাগ’ সেবন করেছিলেন। এই ওষুধ সেবনে অনেক সময় একাধিক সন্তান ধারণ হয়, যা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। আইভিএফের মতো চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাধারণত অতিরিক্ত ভ্রূণ অপসারণ করা হয়, কিন্তু প্রিয়া সেই সুযোগ নেননি। ফলে ছয়টি ভ্রূণই বেড়ে ওঠে এবং জরায়ুর সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে আগেভাগেই ডেলিভারি হয়েছে।

প্রিয়ার ননদাই বাবুল জানান, “আমরা নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে এসেছি। প্রিয়া আমার শ্যালক হানিফের স্ত্রী, যিনি কাতার প্রবাসী। এখানে চিকিৎসকেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢামেকে প্রিয়ার গর্ভে একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম, এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন নবজাতকরা

আপডেট সময় : ০২:০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া নামের এক প্রসূতি। ওজন কম হওয়ায় তিনটি নবজাতককে ঢামেকের এনআইসিইউতে এবং বাকি তিনটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জন্ম দেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবিদা সুলতানা বলেন, “গতরাতে প্রিয়া নামের এক নারী ভর্তি হন। আজ সকালে তিনি ছয়টি সন্তানের জন্ম দেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বেবি’ বলা যায় না, এটি আসলে ২৭ সপ্তাহের ইনএবিটেবল অ্যাবরশন।”

তিনি জানান, এর আগে প্রিয়া একটি পূর্ণবয়স্ক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি ডেলিভারির সময় মারা যায়। এবারের ছয় নবজাতকের মধ্যে তিনটির ওজন প্রায় ৯০০ গ্রাম এবং বাকি তিনটির ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম। বর্তমানে সবাই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং জীবিত আছে।

ডা. আবিদা সুলতানা আরও বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত ২৮ সপ্তাহকে ভ্রূণের জীবনোপযোগী সময় ধরা হয়। কিন্তু এই ডেলিভারি তার আগেই হয়েছে, ফলে শিশুদের প্রাণসংকট রয়েছে। ভাগ্যে থাকলে এবং উন্নত চিকিৎসার কারণে তারা বেঁচে যেতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, একসঙ্গে ছয়টি সন্তান ধারণ স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। প্রিয়া ‘ফার্টিলিটি ওভুলেশন ইন্ডাকশন ড্রাগ’ সেবন করেছিলেন। এই ওষুধ সেবনে অনেক সময় একাধিক সন্তান ধারণ হয়, যা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। আইভিএফের মতো চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাধারণত অতিরিক্ত ভ্রূণ অপসারণ করা হয়, কিন্তু প্রিয়া সেই সুযোগ নেননি। ফলে ছয়টি ভ্রূণই বেড়ে ওঠে এবং জরায়ুর সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে আগেভাগেই ডেলিভারি হয়েছে।

প্রিয়ার ননদাই বাবুল জানান, “আমরা নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে এসেছি। প্রিয়া আমার শ্যালক হানিফের স্ত্রী, যিনি কাতার প্রবাসী। এখানে চিকিৎসকেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”