ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতের জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকছে কি না ঘোষণা আজ, দুপুরে মজলিসে শূরার বৈঠক মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মুক্তির দাবিতে কারাকাসের রাস্তায় হাজারো মানুষ মেসির হাতের সেই বিশ্বকাপ ট্রফি এখন ঢাকায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন আজ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে দিতে হবে ২৫ শতাংশ শুল্ক, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান গোল্ডেন গ্লোব: রাতে বেভারলি হিলসে বসছে তারার মেলা সালাহ ম্যাজিকে আইভরি কোস্টকে বিদায় করে সেমিতে মিশর বারিশাল গৌরনদীতে ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশ ইস্যুতে বিপাকে আইসিসি সভাপতি!

news desk
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে না খেলার ইস্যুতে বেশ বিপাকেই পড়েছেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসিতে যে আবেদন করেছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয় নি আইসিসি। 

জয় শাহের রোববার ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। মূলত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে আসতে অনীহার যে তাৎক্ষণিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান খুঁজে বের করাই এ বৈঠকের লক্ষ্য।

আইসিসির কাছে প্রথম চিঠিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় এবং তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার নামও উল্লেখ করা হয়। 

তবে দ্বিতীয় চিঠিতে বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, বিষয়টি আর শুধু লজিস্টিক্সে সীমাবদ্ধ নেই। বিসিবির ভাষ্য, বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদায় আঘাত লেগেছে এবং ভারতে আসা অনিবার্য হলে বিশ্বকাপ দলে থাকা প্রতিটি সদস্যের জন্য ‘ম্যান-টু-ম্যান’ নিরাপত্তা দাবি করেছে।

এর মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ, সহায়ক কর্মী এবং কর্মকর্তারা সবাই অন্তর্ভুক্ত। তাই চ্যালেঞ্জটাই এখন জয় শাহের মাথা ব্যথার কারণ। 

এখন তার প্রথম কাজ হবে অভ্যন্তরীন, বিসিসিআই এবং আইসিসির অপারেশনস টিমের সঙ্গে বিদ্যমান টুর্নামেন্ট ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা। অর্থাৎ বাংলাদেশের শঙ্কার মূলে কী এবং আইসিসির এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়াগুলো কি কেবল প্রক্রিয়াগত শোনাচ্ছে নাকি সহানুভূতিশীল তা চিহ্নিত করা। তবে জয় শাহের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, কাগজে-কলমে পর্যালোচনাই এ সমস্যার সমাধান করবে না।

তার জন্য কঠিন কাজটি হলো, বিসিবির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে এমন একটি পরিকল্পনা দাঁড় করানো, যা বিসিবি সহজেই গ্রহণ করতে পারে। আর যে কোনো সমাধানেই ঢাকাকে নিজেদের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ দিতে হবে, হোক তা সুস্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, স্বচ্ছ যোগাযোগ, কিংবা ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত নমনীয়তা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে তাকে। এই সমীকরণে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে।

কেননা বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হলে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার এক গোলকধাঁধা তৈরি হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইসিসির বোর্ডের ভোট প্রয়োজন হবে এবং এতে আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল উভয়ের ভেতরকার ভারসাম্য নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্তও স্থাপন করবে।

যেহেতু ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে বর্তমান আইসিসির পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন এবং বিষয়টিকে জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই প্রেক্ষাপটে জয় শাহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রিকেটের নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে কাজ করতে হবে। যিনি উত্তেজনা কমাতে পারবেন এবং আস্থা পুনর্গঠন করতে পারবেন।

সুত্রঃ news24bd.tv

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশ ইস্যুতে বিপাকে আইসিসি সভাপতি!

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে না খেলার ইস্যুতে বেশ বিপাকেই পড়েছেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসিতে যে আবেদন করেছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয় নি আইসিসি। 

জয় শাহের রোববার ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। মূলত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে আসতে অনীহার যে তাৎক্ষণিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান খুঁজে বের করাই এ বৈঠকের লক্ষ্য।

আইসিসির কাছে প্রথম চিঠিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় এবং তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার নামও উল্লেখ করা হয়। 

তবে দ্বিতীয় চিঠিতে বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, বিষয়টি আর শুধু লজিস্টিক্সে সীমাবদ্ধ নেই। বিসিবির ভাষ্য, বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদায় আঘাত লেগেছে এবং ভারতে আসা অনিবার্য হলে বিশ্বকাপ দলে থাকা প্রতিটি সদস্যের জন্য ‘ম্যান-টু-ম্যান’ নিরাপত্তা দাবি করেছে।

এর মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ, সহায়ক কর্মী এবং কর্মকর্তারা সবাই অন্তর্ভুক্ত। তাই চ্যালেঞ্জটাই এখন জয় শাহের মাথা ব্যথার কারণ। 

এখন তার প্রথম কাজ হবে অভ্যন্তরীন, বিসিসিআই এবং আইসিসির অপারেশনস টিমের সঙ্গে বিদ্যমান টুর্নামেন্ট ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা। অর্থাৎ বাংলাদেশের শঙ্কার মূলে কী এবং আইসিসির এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়াগুলো কি কেবল প্রক্রিয়াগত শোনাচ্ছে নাকি সহানুভূতিশীল তা চিহ্নিত করা। তবে জয় শাহের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, কাগজে-কলমে পর্যালোচনাই এ সমস্যার সমাধান করবে না।

তার জন্য কঠিন কাজটি হলো, বিসিবির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে এমন একটি পরিকল্পনা দাঁড় করানো, যা বিসিবি সহজেই গ্রহণ করতে পারে। আর যে কোনো সমাধানেই ঢাকাকে নিজেদের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ দিতে হবে, হোক তা সুস্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, স্বচ্ছ যোগাযোগ, কিংবা ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত নমনীয়তা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে তাকে। এই সমীকরণে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে।

কেননা বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হলে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার এক গোলকধাঁধা তৈরি হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইসিসির বোর্ডের ভোট প্রয়োজন হবে এবং এতে আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল উভয়ের ভেতরকার ভারসাম্য নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্তও স্থাপন করবে।

যেহেতু ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে বর্তমান আইসিসির পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন এবং বিষয়টিকে জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই প্রেক্ষাপটে জয় শাহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রিকেটের নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে কাজ করতে হবে। যিনি উত্তেজনা কমাতে পারবেন এবং আস্থা পুনর্গঠন করতে পারবেন।

সুত্রঃ news24bd.tv