ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০ হাজার খাল চিহ্নিত করতে ৩১ কোটি টাকার প্রকল্প

news desk
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সমাচারের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিলুপ্তপ্রায় ও দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০ হাজার খাল চিহ্নিতকরণ, ম্যাপ তৈরি ও ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনতে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদ-নদীর হালনাগাদ তথ্য থাকলেও খালের কোনো সুনির্দিষ্ট ও একীভূত তথ্যভাণ্ডার নেই। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও খননকাজে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এই সংকট দূর করতেই ‘বাংলাদেশের খালসমূহ চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসকরণ এবং জিও ইনফরমেটিক ডাটাবেজ তৈরি’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হবে।

মেগা পরিকল্পনার অংশ

সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই মূলত ৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, খালের উৎপত্তিস্থল, প্রবাহপথ এবং পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বিবেচনা করে এগুলোকে বড়, মাঝারি ও ছোট-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। সিএস ও আরএস ম্যাপ পর্যালোচনার পাশাপাশি জিও-ইনফরমেশন সিস্টেম (GIS) ব্যবহার করে তৈরি করা হবে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক।

১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্বোধন

এদিকে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ১০০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ১২০০ কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন করা সম্ভব হবে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই খনন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চায় সরকার। আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন।

সুফল ও স্থায়িত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খালের এই ডাটাবেজ তৈরি হলে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সহজ হবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ কাজে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। নদীর ডিজিটাল ডাটাবেজের সঙ্গে এই খালের তথ্য যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সূত্রঃ news24bd.tv

৩০ হাজার খাল চিহ্নিত করতে ৩১ কোটি টাকার প্রকল্প

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৩০ হাজার খাল চিহ্নিত করতে ৩১ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দেশের বিলুপ্তপ্রায় ও দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩০ হাজার খাল চিহ্নিতকরণ, ম্যাপ তৈরি ও ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনতে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদ-নদীর হালনাগাদ তথ্য থাকলেও খালের কোনো সুনির্দিষ্ট ও একীভূত তথ্যভাণ্ডার নেই। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও খননকাজে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। এই সংকট দূর করতেই ‘বাংলাদেশের খালসমূহ চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসকরণ এবং জিও ইনফরমেটিক ডাটাবেজ তৈরি’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হবে।

মেগা পরিকল্পনার অংশ

সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই মূলত ৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, খালের উৎপত্তিস্থল, প্রবাহপথ এবং পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বিবেচনা করে এগুলোকে বড়, মাঝারি ও ছোট-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। সিএস ও আরএস ম্যাপ পর্যালোচনার পাশাপাশি জিও-ইনফরমেশন সিস্টেম (GIS) ব্যবহার করে তৈরি করা হবে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক।

১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্বোধন

এদিকে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ১০০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ১২০০ কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গত মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন করা সম্ভব হবে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই খনন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চায় সরকার। আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারেন।

সুফল ও স্থায়িত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খালের এই ডাটাবেজ তৈরি হলে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সহজ হবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ কাজে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। নদীর ডিজিটাল ডাটাবেজের সঙ্গে এই খালের তথ্য যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সূত্রঃ news24bd.tv

৩০ হাজার খাল চিহ্নিত করতে ৩১ কোটি টাকার প্রকল্প